জাহাঙ্গীর খান বাবু
আজ ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোট । সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ভোটের দিন ঐসব এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকছে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ধাপে ১০৯ উপজেলায় ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে গত সোমবার ১৯টি এবং গতকাল মঙ্গলবারআরো ৩টি উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আজ ৮৭টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ২৮ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ২৯ মে দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তিন দিনের জন্য মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নামানো হয়েছে বিজিবি, পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও আচরণ বিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে গঠিত বিভিন্ন টিমের বিষয়ে ইসির এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিজিল্যান্স টিম ও অবজারভেশন টিম, মনিটরিং টিম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন এবং উক্ত টিমসমূহের কার্যক্রম নির্ধারিত তিন দিন পর পর বা ক্ষেত্রমতো তাৎক্ষণিক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করতে হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা টিমসমূহ কর্তৃক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবগত করানোর জন্য নির্দেশনা দেবেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাচনের সামগ্রিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকল্পে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ভোটের দিন প্রতিটি উপজেলায় থাকবে ত্রিস্তরের নিরাপত্তা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার বাহিনী নিয়োজিত করার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং র্যাব ও বিজিবি টহলরত থাকবে। আর সব এলাকায় সাদা পোশাকে থাকবে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। যদি কেউ নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গ করেন তাহলে নির্বাচন কমিশন আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের আগে রোববার মধ্যরাতেই শেষ হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার। তবে প্রতিটি এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী থাকায় এবং কোনো কোনো এলাকায় কোনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে মন্ত্রী এমপিদের সরাসরি সমর্থন থাকায় এসব এলাকায় নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করেছে বিভিন্ন মহল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব এলাকার প্রতি কঠোর নজরদারি রেখেছে বলে জানা যায়।
দেশে চারধাপের উপজেলা নির্বাচন শুরু হয় ৮ মে থেকে। ৫ জুন পর্যন্ত চার ধাপে শেষ হবে ৪৯৫টির মধ্যে ৪৮১টি উপজেলার নির্বাচন। তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৭জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৯ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর দুর্গম এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ থেকে ২১ জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের করা হবে। সাধারণ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবিও দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রতি ইউনিয়নে থাকবে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে, বিশেষ করে বিজিবির প্রতিটি মোবাইল টিমের সঙ্গে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
ইতোমধ্যেই এ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণকালে বিশৃংখলা ঠেকাতে কঠোর নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে থাকবে ত্রিস্তরের নিরাপত্তা বলয়। আগের দুই ধাপের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ইসিসহ সকল অংশীজন তৎপর।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, দুই ধাপের উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সহিংস ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনের অর্জনকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে। ৮ মে প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। এটি উপজেলা নির্বাচনে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড। এর পর ২১ মে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা আগের ধাপের চেয়ে কিছু বেশি। তাই ২৯ মে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে যাতে আরও বেশি ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয় সে জন্য নির্বাচন কমিশনসহ সকল অংশীজন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তৃতীয় ধাপে সারাদেশের ৪৪ টি জেলার মধ্যে যে ৮৭ টি উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, নীলফামারী সদর, দিনাজপুর জেলার খানসামা, সদর ও চিরিরবন্দর, লালমনিরহাট সদর, রংপুর জেলার গংগাচড়া ও সদর, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী, ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী, গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জ। রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার শাজাহানপুর, সদর ও শিবগঞ্জ, নওগাঁ জেলার আত্রাই ও রাণীনগর, রাজশাহী জেলার পবা ও মোহনপুর, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর ও বড়ইগ্রাম, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর (ইভিএম) ও চৌহালী (ইভিএম), পাবনা জেলার সদর (ইভিএম), আটঘরিয়া (ইভিএম) ও ঈশ্বরদী (ইভিএম)।
খুলনা বিভাগের যশোর জেলার অভয়নগর (ইভিএম) ও বাঘারপাড়া (ইভিএম), সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া ও সদর।
মানিকগঞ্জ জেলার সদর (ইভিএম) ও সাটুরিয়া (ইভিএম), ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা ও সদরপুর, শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা (ইভিএম) ও গোসাইরহাট (ইভিএম), নরসিংদী জেলার শিবপুর, টাঙ্গাইল জেলার সদর, দেলদুয়ার ও নাগরপুর, মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান ও শ্রীনগর, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও মিঠামইন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া, ঈশ্বরগঞ্জ ও ত্রিশাল, জামালপুর জেলার মেলান্দহ (ইভিএম) ও মাদারগঞ্জ (ইভিএম), নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ, মদন । সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ও দোয়ারা বাজার, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ জেলার লাখাই, সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ।
চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ ও বাঞ্ছারামপুর, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মুরাদনগর ও দেবীদ্বার, ফেনী জেলার সোনাগাজী, ফেনী সদর, দাগনভূঞা, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী সদর ও কোম্পানীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর জেলার সদর, চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বোয়ালখালী, পটিয়া ও চন্দনাইশ, কক্সবাজার জেলার উখিয়া (ইভিএম), টেকনাফ (ইভিএম) ও রামু (ইভিএম), খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি, রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ার চর, লংগদু ।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভোট স্থগিত হওয়া উপজেলাগুলো হচ্ছে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী এবং চাঁদপুর জেলার কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা।
শরিফুল আলম বলেন, খালিয়াজুরী উপজেলায় সড়কসংযোগ এবং কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ইভিএমের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার, ১৯ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। এ ১৯ উপজেলা হচ্ছে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা, খুলনা কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া, বরিশালের গৌরনদী, আগৈলঝারা, পটুয়াখালীর পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ভোলার তজুমদ্দিন, লালমোহন, ঝালকাঠির রাজাপুর, কাঠালিয়া, বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
